ফেনীতে পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণে শতাধিক গ্রাম প্লাবিত, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ফুলগাজী-পরশুরাম, মাঠে সেনা-বিজিবি
টানা বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া ও সদর উপজেলার শতাধিক গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এতে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তবে জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, বন্যাক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার।
পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে বানভাসিদের সংখ্যা বাড়ছে। তবে বেশিরভাগ আশ্রয়কেন্দ্রে ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী
ফুলগাজীর বিভিন্ন গ্রামে পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধারে সেনাবাহিনীর একাধিক দল নামানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের আওতাধীন দূরন্ত ১৫ সাপোর্ট ব্যাটালিয়নের ১৩৯ সদস্যের একটি দল উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে।
সেনাবাহিনী নিজস্ব স্পিডবোট ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। একই সঙ্গে শুকনো খাবারের সহস্রাধিক প্যাকেট বিতরণ শুরু করেছে।
সেনা কর্মকর্তা মেজর মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান রাশেদ জানান, যতদিন প্রয়োজন, সেনাবাহিনী বানভাসি মানুষের পাশে থাকবে।
ফেনী-পরশুরাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ
বন্যার তৃতীয় দিনেও ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক সড়ক ডুবে রয়েছে। এতে করে ফেনী জেলা সদরের সঙ্গে ফুলগাজী ও পরশুরামের সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
নতুন করে প্লাবিত ছাগলনাইয়া ও সদর
বুধবার রাত থেকে ছাগলনাইয়া ও ফেনী সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে।
ফুলগাজীর ৬৭টি, পরশুরামের ২৭টি, ছাগলনাইয়ার ১২টি এবং সদর উপজেলার অন্তত পাঁচটি গ্রাম পানির নিচে রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
ছাগলনাইয়া উপজেলার ইউএনও সুবল চাকমা জা
নান, আটটি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪৯০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে প্রশাসন।
ত্রাণের অভাব ও ক্ষোভ
অন্যদিকে, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বানভাসিরা।
ফুলগাজীর মুন্সিরহাট ইউনিয়নের রিনা আক্তার বলেন, “বুধবার রাত থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকলেও কেউ ত্রাণ দেয়নি।”
শরিফা আক্তার নামে আরেকজন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি কোনো সহায়তা পাননি।
তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে ফুলগাজী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে। এখানে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
বিজিবি পাশে দাঁড়িয়েছে
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পরশুরাম ও ফুলগাজীতে রান্না করা খাবার বিতরণ করছে।
বুধবার রাতে ধনীকুন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া ২০০ জনের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন কুমিল্লা অঞ্চলের বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রেজাউল কবির।
বৃষ্টিপাত ও নদীর পানি কমেছে
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম জানিয়েছেন, মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে গেছে।
বর্তমানে নদীর পানি বিপৎসীমার চেয়ে ১০.৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ফেনী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫৮.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় কম।


0 Comments