
ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় যুদ্ধের পথে কি ইসরায়েল?
গত মাসে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনব্যাপী সংঘাতে নিজেদের বিজয়ী মনে করছে ইসরায়েল। যুদ্ধ চলাকালীন ইসরায়েলের হামলায় ইরানের একাধিক সামরিক কমান্ডার নিহত হন এবং দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় অংশ নেয়—যা ইসরায়েলের জন্য একটি কৌশলগত সাফল্য বলে বিবেচিত হচ্ছে।
তেল আবিব মনে করছে, এই অভিযান তাদের সামরিক লক্ষ্য পূরণে সফল হয়েছে। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের ওপর সামরিক চাপ প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজন হলে তাঁরা আবারও আক্রমণে যাবে। তাঁর ভাষায়, "ইরান আমাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি। কোনোভাবেই আমরা একচুলও পিছু হটব না।"
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল এখন ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বারের মতো আরেকটি বড় সংঘাতের সুযোগ খুঁজছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে দুর্বল করা এবং সরকারের ভিত নাড়িয়ে দেওয়াই এই কৌশলের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য। আল–জাজিরায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক বলেন, “ইসরায়েল এখন অপেক্ষা করছে এমন একটি ঘটনার জন্য যা তাদের দ্বিতীয়বার আঘাত হানার নৈতিক ও কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করে দেবে।”
তবে আরও একটি যুদ্ধ শুরু করতে গেলে ইসরায়েলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন অপরিহার্য। যদিও ওয়াশিংটন ফোরদোর আক্রমণে সরাসরি অংশ নিয়েছে, কিন্তু আবারও সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর ব্যাপারে মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্ত এখনও অনিশ্চিত। এ নিয়ে বাইডেন প্রশাসন সতর্ক, কারণ অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে তা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকেও প্রভাবিত করতে পারে।
প্রসঙ্গত, গত জুনে ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের সূচনা হয়। এতে ১ হাজারের বেশি ইরানি এবং ২৯ জন ইসরায়েলি নিহত হন। ইসরায়েল দাবি করেছে, এটি ছিল আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ—তাদের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা। অন্যদিকে, তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এ সপ্তাহের শুরুতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুদ্ধবিরতি কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান। তাঁর বক্তব্য, “ইসরায়েলের যেকোনো নতুন আগ্রাসনের জবাব দিতে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমাদের বাহিনী পুনরায় ইসরায়েলের অভ্যন্তরে আঘাত হানতে সক্ষম।”
অবশ্য ইসরায়েলের হামলা শুধু পারমাণবিক স্থাপনায় সীমাবদ্ধ ছিল না। তারা ইরানের উচ্চপদস্থ বেশ কয়েকজন সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাকেও টার্গেট করে, যা অনেকের মতে, দেশটির সরকারকে অস্থিতিশীল করার সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা।
বর্তমানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবে পরিস্থিতি যেকোনো সময় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে—বিশেষ করে যদি দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও আক্রমণাত্মক অবস্থান অব্যাহত থাকে।
0 Comments