২০২১ সালে নিজের বাড়ির সামনে, মহালছড়ির বিহারটিলা এলাকায়, প্রায় আড়াই একর ঢালু পাহাড়ি জমিতে রাম্বুটানের বাগান গড়েন ডা. আকেইপ্রু। মাত্র চার বছরেই ফলনের সাফল্যে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে বাগানে থাকা ২২০টি গাছের মধ্যে ১৮০টি গাছে পাকা লাল ও হলুদ রঙের রসালো রাম্বুটান ঝুলছে থোকায় থোকায়।
ডা. আকেইপ্রু জানান,
“প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে ১৫ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত ফল পাচ্ছি। প্রতি কেজি ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করছি। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফল মিলবে। বাগানটি এখন শখ থেকে বাণিজ্যিক দিকে এগোচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, গুইমারার জালিয়াপাড়ায় আরও এক হাজার মালয়েশিয়ান জাতের চারা রোপণ করেছেন, যেগুলো ইতিমধ্যে এক বছর পার করেছে।
রাম্বুটান দেখতে অনেকটা লিচুর মতো হলেও এর ত্বক নরম ও লোমশ। মিষ্টি ও রসালো এই ফলে রয়েছে ভিটামিন সি, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন। চাষ হচ্ছে পাঁচটি বিদেশি জাত— ইন্দোনেশিয়ান বিনজাই, থাই রিয়ান, ফিলিপাইনের কুইজন, মালয়েশিয়ান ‘স্কুল বয়’ এবং ভারতীয় হাইব্রিড এন-১৮।
কৃষি কর্মকর্তাদের দৃষ্টিতে রাম্বুটান
মহালছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সোহরাব হোসেন ভুঁইয়া বলেন,
“পাহাড়ি অঞ্চলে রাম্বুটান চাষের উপযোগিতা প্রমাণ হয়েছে। গাছে ভালো ফলন হয়েছে। পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করতে হবে, তবেই ফলন আরও ভালো হবে।”
খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মালেক জুয়েল বলেন,
“পাহাড়ি মাটি ও জলবায়ু রাম্বুটান চাষের জন্য আদর্শ। উন্নত জাত উদ্ভাবনের চেষ্টা চলছে।”
উপসংহার
রাম্বুটান এখন আর শুধু বিদেশি ফল নয়—পাহাড়ি বাংলাদেশের এক নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। ডা. আকেইপ্রুর এই সফলতা হয়তো আরও অনেক উদ্যোক্তাকে উদ্বুদ্ধ করবে পাহাড়ের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে।

0 Comments